৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , ৮:১৭ পূর্বাহ্ণ

উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:০১ পিএম, ১২ মার্চ ২০১৮ সোমবার

উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

চলতি মার্চ মাসেই জাতিসংঘের উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় যুক্ত হবার প্রাথমিক ঘোষণা পাবে বাংলাদেশ। 

সাড়ে চার দশক পর মুক্তি মিলছে দরিদ্র দেশের তকমা থেকে। তবে তা রাজসিক ভাবেই। আর কোন দেশ জাতিসংঘের ৩টি সূচকেরই শর্ত পূরণ করতে পারেনি। বাংলাদেশই প্রথম। অর্থনীতির সব সুচকে অগ্রগতির এমন স্বীকৃতির পাশাপাশি সামনের দিনের চ্যালেঞ্জও কম নয়, সে কথাই যেন মনে করিয়ে দিলো গবেষণা সংস্থা সিপিডির সংলাপ।

 

২০২৭ সালের পর থেকে স্বল্পোন্নত দেশের সব সুবিধা অর্থাৎ শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার, কম সুদে ঋণ এ সব কিছুই বাতিল হবে বাংলাদেশের জন্য। আর তখন থেকেই শুরু হবে বাংলাদেশের আসল চ্যালেঞ্জ।

 

জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপো বলেন, "বাংলাদেশকে পণ্য রপ্তানিতে অতিরিক্ত ৬ দশমিক ৭ শতাংশ শুল্ক গুণতে হবে। যে কারণে সাড়ে ৫ থেকে সাড়ে ৭ শতাংশ রপ্তানি কমতে পারে যার আর্থিক মূল্য হতে পারে আড়াই বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।"

 

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের লিড ইকোনোমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন জানান, "নানামুখী চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাবনাও অনেক। যেমন অনেক সংস্থাই আছে যেগুলো স্বল্পোন্নত দেশকে ঋণ দেয়না। উন্নয়নশীল দেশ হলে বাংলাদেশ সেইসব সংস্থা থেকে ঋণ নিতে পারবে। বিদেশী বিনিয়োগও বাড়বে।"

 

সংলাপ চলার সময়ই একই বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাদা করে কথা বলেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

  

৩টি সেশনে এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নানা পথও বাতলে দেন বিশেষজ্ঞরা। সুশাসন আর টেকসই গণতান্ত্রিক চর্চা ছাড়া এ চ্যালেঞ্জ জয় করা মুশকিল হবে বলেও মনে করেন তাঁরা।

 

প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী বলেন, "প্রবৃদ্ধি যত বাড়ছে, বৈষম্যও তত বাড়ছে। এটা মোটেও ভুলে থাকা উচিত হবে না। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে এলডিসি পরবর্তী সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা খুব একটা কঠিন হবে না।"

 

সিপিডির চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহান জানান, "অর্থনীতির যত অর্জন আমাদের হয়েছে, সবকিছুই ভেস্তে যাবে যদিনা আমরা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারি। আর সেক্ষেত্রে টেকসই গণতান্ত্রিক চর্চা খুব জরুরি।"

 

২০১৮তে প্রাথমিক স্বীকৃতির ৩ বছর পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি আবারও পর্যালোচনা করবে জাতিসংঘ। তারও ৩ বছর পর, ২০২৪ এ উন্নয়নশীল দেশের চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবে বাংলাদেশ।