৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শনিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ , ৫:৫৫ অপরাহ্ণ

‘কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া’

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:৪৪ এএম, ৯ জুন ২০১৮ শনিবার

‘কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া’

‘কারাগারে মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া’

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গত ৫ জুন (মঙ্গলবার) মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার (৮ জুন) রাতে ডাকা এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, ‘আজ (শুক্রবার) বিএনপি চেয়ারপারসন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নিকটাত্মীয়রা তার সঙ্গে ঢাকার পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে সাক্ষাতের জন্য গিয়েছিলেন। সাক্ষাৎ শেষে তারা দেশনেত্রী সম্পর্কে যে বর্ণনা দেন তা শুধু মর্মস্পর্শীই নয়, হৃদয়বিদারক।’
তিনি বলেন, সরকারের জিঘাংসার কষাঘাতের তীব্রতা যে কত ভয়াবহ সেটি বোঝা যাবে শুধুমাত্র বেগম জিয়ার প্রতি অমানবিক আচরণের মাত্রা দেখলেই। নিকটাত্মীয়রা বলেছেন গত ৫ জুন বেগম জিয়া দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলেন। তিনি তিন সপ্তাহ যাবৎ ভীষণ জরে ভুগছেন যা কোনভাবেই থামছে না।

বিএনপি মুখপাত্র বলেন, দেশনেত্রীর দুটো পা এখনো ফুলে আছে এবং তিনি তার শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারছেন না। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি- দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে আমি যে কথাগুলি বললাম তা সম্পূর্ণরুপে সত্য। তার অসুস্থতা নিয়ে ইতোপূর্বেও যে কথাগুলো বলা হয়েছে তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ হলে তার স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি, দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে যে কথাগুলো বললাম, তা সম্পূর্ণরূপে সত্য। তার অসুস্থতা নিয়ে ইতোপূর্বেও যে কথাগুলো বলা হয়েছে, তা নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ হলে তার স্বাস্থ্যের এতটা অবনতি হতো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও উদাসীনতার কারণে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তার প্রয়োজনীয় যে চিকিৎসাগুলোর জন্য বারবার দাবি করা হয়েছিল, যেমন— বিশেষায়িত এমআরআই, সিটি স্ক্যান, ইকো কার্ডিওগ্রাফি, ইসিজি, বিএমডিসহ জরুরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং একটি চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে জরুরি চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা। কিন্তু দলের নেতাদের দাবি এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ ক্রমাগত উপেক্ষাই করে চলেছে সরকার।’

রিজভী আহমেদ জানান, ‘গত ২১ মে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আব্দুস সাত্তার স্বরাষ্ট্র সচিব বরাবরে আবেদন করেছিলেন— খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চারজন চিকিৎসককে দিয়ে কারাগারে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর জন্য। কিন্তু এ বিষয়ে বারবার তাগিদ দেওয়া হলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনও সাড়া দেয়নি।’
‘এতে মনে হয় সরকার এবং সরকার প্রভাবিত প্রশাসনযন্ত্র দেশনেত্রীকে নিয়ে কোনও গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে।’ যোগ করেন রুহুল কবির রিজভী।

রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে সরকারের প্রতিহিংসার পাখা সবসময় যেন ঝটপট করছে। বারবার দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে সুচিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা, দলের নেতারা, দেশের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ সোচ্চার থাকলেও সরকার এক অশুভ উদ্দেশ্যে তা অগ্রাহ্য করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এক অশুভ উদ্দেশ্য নিয়েই দেশনেত্রীর সুচিকিৎসায় বাধা দিচ্ছে। সরকারের অভিপ্রায় নিয়ে জনগণের মধ্যে প্রবল সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে যে, আসলে দেশনেত্রীকে নিয়ে সরকার কী করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকার মর্যাদা, সহানুভূতি, অন্যের প্রতি সম্মান ও অনুশোচনা হারিয়ে ফেলেছে। চরম মিথ্যাচার যাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্রনীতির এজেন্ডা, একজন সম্মানিত জনপ্রিয় নেত্রীকে-তো কষ্ট দেওয়া ছাড়া, ভালো কিছু করার শিক্ষা ওদের নেই।’ নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে সব ব্যবস্থাই তারা করতে পারে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত কয়েকজন চিকিৎসক।