৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, সোমবার ১৮ নভেম্বর ২০১৯ , ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

কে এই আসিফ আকবর ?

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:১১ পিএম, ৭ জুন ২০১৮ বৃহস্পতিবার

কে এই আসিফ আকবর ?

কে এই আসিফ আকবর ?

আসিফ আকবরের পিতার পরিচয় কমবেশি সকলেই জানে, কুমিল্লার কুখ্যাত রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবর আসিফের পিতা।

বঙ্গের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দিয়ে পুরো বাড়ি লুট করে আসিফ আকবরের পিতা রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবর। কুমিল্লার সর্বজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব যতীন্দ্র ভদ্র, অতীন্দ্র ভদ্র, প্রসন্ন কুমার ভৌমিক, নিতাই সাহা, কেডি রায়, শিশিরেন্দ্র দাশগুপ্ত রানার হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবর।

মুক্তিযুদ্ধের সময় কুমিল্লার যে ১০টি স্থানে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আড্ডা ছিলো, এর মধ্যে একটি ছিলো এ্যাডভোকেট আলী আকবরের বাড়ি। বীর মুক্তিযোদ্ধা বাহাউদ্দিন বীর প্রতীক এক ভিডিও বার্তায় রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবরের বাড়িতে মুক্তিযোদ্ধাদের গ্রেনেড নিক্ষেপ করার কথা বলেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সহযোগী হিসেবে হত্যা-লুটতরাজ এবং বিভিন্ন অপকর্মে সহযোগিতা করার অপরাধে ১৯৭২ সালে কোলাবোরেট এ্যাক্টের অধীনে গঠিত স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে আসিফের পিতা রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবরের বিরদ্ধে কুমিল্লা জেলা সদর দক্ষিণ মহকুমার সাব ডিভিশনাল অফিসার বাদী হয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেন; যার মামলা নং ০৮/৭২।

আর এ মামলাতেই রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবরকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর জিয়াউর রহমানের এক সামরিক ফরমানে কোলাবোরেট এ্যাক্ট অর্থাৎ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বাতিল করে দিলে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসে কুমিল্লার কুখ্যাত রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবর। রাজাকার এ্যাডভোকেট আলী আকবরের পুত্র আসিফ আকবর পিতার রাজাকার পরিচয় নিয়ে বরাবরই গর্ব করতো, বিএনপি-জামাত চারদলীয় জঙ্গি জোটের সময়ে আসিফের উত্থান; সঙ্গীতাঙ্গনে রীতিমতো মাফিয়া হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে আসিফ।

খালেদাপুত্র তারেকের কাছে মেয়েদের পাঠানোর মধ্য দিয়ে এসকর্ট ব্যবসা শুরু করে আসিফ, ইয়াবা এবং হেরোইনের ব্যবসাও করে আসিফ; ঢাকাইয়া মিডিয়া পাড়ার চিহ্নিত একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে আসিফ। বিগত দিনগুলোতে আসিফ অনুমতি না নিয়েই বিভিন্ন শিল্পীর প্রায় সাতশো জনপ্রিয় গান ডিজিটাল ফর্মেটে কনভার্ট করে মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে, এ মাধ্যমে আসিফ কোটি কোটি টাকার ব্যবসা করে; কোনো শিল্পী এর প্রতিবাদ করতে গেলেই প্রাণনাশের হুমকি দিতো আসিফ। তথাকথিত শিল্পী রাজাকারপুত্র আসিফ আকবরকে গ্রেফতারের খবর শুনে মনে শান্তি লাগছে, মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করে হুমকি প্রদান করা ছিলো আসিফের রুটিন কাজ; আশা করি এবার আসিফের নোংরামির দম্ভ ভেঙে দেওয়া হবে।