৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , ৮:৪৬ পূর্বাহ্ণ

কে এই রিচার্ড বেনকিন !!!

কে এই রিচার্ড বেনকিন !!!

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৪৪ এএম, ৯ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার | আপডেট: ০১:৫৩ এএম, ৯ মার্চ ২০১৮ শুক্রবার

কে এই রিচার্ড বেনকিন !!!

কে এই রিচার্ড বেনকিন !!!

রিচার্ড বেনকিন, ইসরাইলপন্থী মার্কিন সমাজকর্মী ও মোসাদ প্রতিনিধি। ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রচারণাকে কেন্দ্র করে তার সকল কর্মকান্ড পরিচালিত। তিনি নিজেকে দক্ষিণ এশিয়ার সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষজ্ঞ বলে দাবি করেন। তবে তার কর্মকান্ড মূলত ভারত ও বাংলাদেশ কেন্দ্রিক। ইন্টারফেইথ নামে তার একটি সংগঠন আছে যার মধ্যমে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্যর কথা বললেও তিনি কট্টরপন্থী ধারার সাথে যুক্ত। এ ছাড়াও তিনি Infidel Liberation Front নামক একটি এন্টি মুসলিম সংগঠনের সাথে যুক্ত।

 

রিচার্ড এল বেনকিন ১৯৭৬ সালে স্যোসিওলজি’তে পেনসিলভানিয়া ভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ইলিয়নস রাজ্য লিক্সিংটন নার্সিং এন্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার নামে একটি নার্সিং হোম প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু প্রতারণা ও মানবাধিকার লঙ্গনসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ২০০৩ সালে ইলিয়নস রাজ্যর স্টেট ডিপার্টমেন্ট তার নার্সিং হোম এর লাইসেন্স বাতিল করে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন এজেন্টস রেজিষ্ট্রেশন এ্যাক্ট অনুযায়ী মাসে পাঁচ হাজার ইউএস ডলারের চুক্তিতে অনির্দিষ্টকাল মেয়াদের জন্য বিএনপির লবিষ্ট নিয়োগ দেয়া হয় মোসাদ সমর্থনপুষ্ট আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক এ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) এর প্রধান সংগঠক ড. রিচার্ড এল. বেনকিনকে, যার রেজিস্টার্ড নম্বর ৫৭০৮। তার সাথে তারেক রহমান তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এর গভীর সখ্যতা ছিল এবং পরামর্শে রিচার্ড বেনকিন আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু নির্যাতনসহ মানবাধিকার বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক অপপ্রচার চালিয়েছিলো। ওয়াশিংটন গ্রুপের পক্ষে এ চুক্তিতে বেনকিনের পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন জন ডি রাফায়েলি এবং বিএনপির পক্ষে শমশের মবিন চৌধুরী ও লুৎফুজ্জামান বাবর। সরকারী কোষাগার থেকে এই লবিস্ট ফার্মকে ফী পরিশোধ করা হলেও চুক্তির বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালে রাখা হয়। ১/১১ ও পরবর্তী পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেনকিনের বাংলাদেশ কেন্দ্রিক কার্যক্রম ছিল আফগান ফেরত বাংলাদেশী যোদ্ধাদের সাথে সংশ্লিষ্ট। ২০১১ সালে বিএনপির পক্ষে এবং ২০১২ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ইস্যুতে জামায়াতের পক্ষে আন্তর্জাতিক লবিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করে।

 

এছাড়া তিনি গত ২০১৩/২০১৪ সালের দিকেও বাংলাদেশে এসেছিলেন। সে সময় তিনি বাংলাদেশে এসে বিএনপি-জামায়েতের সহায়তায় মনগড়াভাবে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দুদের উপর কথিত নির্যাতনের ভিডিও, ইন্টারভিউ নিয়ে বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচারণায় লিপ্ত ছিলেন। সম্প্রতি মায়ানমার রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্টারী দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অথচ “ বাংলাদেশে জাতিগত শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত আছে” – এমন মনগড়া অভিযোগের ভিত্তিতে লিখিত একটি বইয়ের লেখক এবং বিএনপি জামায়াতের লবিস্ট রিচার্ড বেনকিন সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবার বাংলাদেশে এসেছেন। এবারও তিনি বাংলাদেশে এসে আন্তর্জাতিক মহলে পুণরায় বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন সহ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে এরূপ বিভিন্ন প্রকার সাজানো তথ্য সংগ্রহ করে প্রচারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা যায়।

 

বাংলাদেশ বেনকিনের সহযোগী হিসেবে গোপনে ডেভিড বার্গম্যান, সালাউদ্দিন শোয়েব ও এ্যাডঃ রবীন্দ্র ঘোষ কাজ করছে বলে জানা যায়। এরুপ বাস্তবতায় ড. রিচার্ড বেনকিন এর মাধ্যমে পুনরায় বর্তমান সরকার বিরোধী কোন ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে। এছাড়া তৎকালীন বিএনপি সরকার এর লবিস্ট হিসেবে কাজ করা ড. রিচার্ড বেনকিনকে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ সফরে অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে আরো সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন রয়েছে বলে অনেকে মনে করে।