৪ ভাদ্র ১৪২৬, মঙ্গলবার ২০ আগস্ট ২০১৯ , ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ

ছয় প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:২১ এএম, ৩ জুলাই ২০১৭ সোমবার | আপডেট: ০১:৫৯ এএম, ৩ জুলাই ২০১৭ সোমবার

ছয় প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা

ছয় প্রকল্পে ১৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে জাইকা

সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করার অংশ হিসেবে জাপান বাংলাদেশকে ছয় প্রকল্পে ১৭৮ দশমিক ২২৩ বিলিয়ন ইয়েনের সমপরিমাণ ১ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার সহজ শর্তে ঋণ দিচ্ছে জাপান। যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডের এক বছরপূর্তির ঠিক দুদিন আগে অর্থাৎ গত ২৯ জুন বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি হয়েছে বলে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে ইআরডির সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা রোববার রাইজিংবিডিকে বলেন, জাপান আমাদের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন সহযোগী দেশ। জাপানের অর্থায়নে দেশে অনেকগুলো বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। গত ২৯ জুন জাপানে ছয়টি প্রকল্পের জন্য ঋণ চুক্তি হয়েছে।

তিনি বলেন, গত বছর গুলশানের দুঃখজনক হত্যাকাণ্ডের পর জাপান বাংলাদেশ থেকে তাদের সহযোগিতার হাত গুটিয়ে নিতে পারেন বলে অনেকেই আশঙ্কা করেছিলেন। জাপানের সঙ্গে নতুন এ ঋণ চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। বন্ধ থাকা মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ছয় অবকাঠামো প্রকল্পে বাংলাদেশকে জাপান যে ঋণ দিচ্ছে বাংলাদেশি টাকায় তা প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা।

জাইকার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘১৬ কোটি মানুষ অধ্যুষিত বাংলাদেশ বিশ্বের ঘনবসতি দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম (বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে অষ্টম)। প্রতি বছর দেশটি গড়ে ৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সেলাই ও তৈরি পোশাক শিল্পে প্রভূত উন্নতি সাধন করেছে। সস্তা শ্রম ও প্রচুর জনশক্তির কারণে বিদেশি বিভিন্ন কোম্পানির মত জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোও বাংলাদেশের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে বড় বাজার বাংলাদেশকে আগামী দিনের একটি সম্ভাবনাময় শিল্প কেন্দ্র ও বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত করেছে।’

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয়ের দেশ হিসেবে পরিগণিত হওয়ার জন্য সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর করার পথের ‘বাধা অপসারণে’ জাইকা বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। 

যে ৬ প্রকল্পের জন্য ঋণ দেওয়া হচ্ছে সে প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে ৬ কোটি ৮৩ লাখ ডলার। কাঁচপুর, মেঘনা, গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ ও বর্তমান সেতু সংস্কার প্রকল্প ৪ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প (লাইন ওয়ান) এর জন্য  ৪ কোটি ৯৮ মিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া মহেশখালীর মাতারবাড়িতে আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ৯ কোটি ৫৪ লাখ ডলার। ঢাকায় ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ১ কোটি ৮২ লাখ ডলার এবং ছোট আকারে পানিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ কোটি ৫৫ লাখ ডলার।

গত বছর জুন মাসে জাইকা মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি ফেইজে ৩৩ কোটি ৬৬ লাখ ডলার দেওয়ার চুক্তি করলেও ১ জুলাই গুলশানে জঙ্গি হামলার পর দরপত্র প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়।

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে সাতজনই ছিলেন জাপানি নাগরিক, যারা জাইকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জরিপ কাজে ঢাকায় এসেছিলেন।

জাইকার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাতারবাড়ি প্রকল্পের প্রাথমিক ক্রয়ের জন্য চলতি জুলাই মাসেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য ২০১৪ সালে ৩৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন করে সরকার। সে সময় সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়, এই প্রকল্পে ২৯ হাজার কোটি টাকা দেবে জাইকা। ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবরে শেষ হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দেশের বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। কারণ এ কেন্দ্রটি থেকে পরিবেশের জন্য হুমকি হবে না।

এ ছাড়াও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর  উন্নয়নে ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ  আকাশ পথে প্রায ৭৫ শতাংশ যাত্রী  পরিবহন করা হয়ে থাকে এ বিমানবন্দর থেকে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই বিমানবন্দরটিরও চাহিদা বাড়াছে। ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে এখনই বিমানবন্দরটির উন্নয়ন হওয়া প্রয়োজন।

নামমাত্র সুদে অর্থাৎ প্রতি বছর ঋণের প্রকল্প সুদ দিতে হবে শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ এবং কনসাল্টিং সার্ভিস দিতে হবে শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এই ঋণ শোধ করতে বাংলাদেশ সময় পাবে ৩০ বছর। রেয়াতকাল ধরা হয়েছে ১০ বছর, অর্থাৎ চুক্তির প্রথম দশ বছর পর থেকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে। পাঁচটি প্রকল্পে এই হারে ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হলেও ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের ঋণের বিপরীতে কোনো সুদ দিতে হবে না। শুধু শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ হিসেবে কনসাল্টিং সার্ভিস হিসেবে দিতে হবে।