৫ কার্তিক ১৪২৬, রবিবার ২০ অক্টোবর ২০১৯ , ৩:৪৬ অপরাহ্ণ

জামায়াতের হিটলিস্টে ৫৬০ বিশিষ্টজন

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০১:৫৬ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার | আপডেট: ১০:০৭ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০১৮ শনিবার

জামায়াতের হিটলিস্টে ৫৬০ বিশিষ্টজন

জামায়াতের হিটলিস্টে ৫৬০ বিশিষ্টজন

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে নিয়ে দারুণ সক্রিয় বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী। নিবন্ধন হারানো দলটি নির্বাচনে তাদের নেতা-কর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে যেমন উৎসাহিত করছে; অন্যদিকে রাজনৈতিক মিত্রজোট বিএনপি’র থেকে কমপক্ষে ৫০ টি আসন চেয়েছেন তারা। জেতার মত প্রার্থীদেরও ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে বিএনপিও জামায়াতকে আশ্বস্থ করেছে।
এদিকে আগামি নির্বাচনে জয়ী হলে পরবর্তী কর্মপরিকল্পনাও ঠিক করেছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সংগঠনটি। তবে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্তরায় হিসেবে প্রগতিশীল আদর্শে বিশ্বাসীদের বাঁধা হিসেবে দেখছেন তারা। প্রগতিশীল বলয়ের কন্ঠরোধে তাই ৫৬০ বিশিষ্টজনের ‘হিটলিস্ট’ তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ফের ক্ষমতায় আসলে জামায়াত প্রগতিশীল চিন্তাশক্তির বলয়কে ধ্বংস করতে চায় এমন তথ্য সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রয়েছে। সে লেক্ষ্যে তারা ৫৬০ বিশিষ্ট ব্যক্তির তালিকা তৈরি করেছে। দেশে ও দেশের বাইরের বিভিন্ন স্থানে গোপন বৈঠক থেকে এই নামের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তালিকায় রাজনীতিবিদ-শিক্ষক-সাংবাদিক-সংস্কৃতিকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের নাম রয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে জয়ের সমীকরণ মেলাতে জামায়াত প্রকাশ্যে নিষ্ক্রিয় থাকলেও পর্দার অন্তরালে বিএনপির সঙ্গে নিজেদের বোঝাপড়া ঠিকই করে নিচ্ছে। বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্টকে সমর্থনের বিনিময়ে তারা বিএনপিকে কিছু শর্ত দিয়েছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করলেও জোটগতভাবে মনোনয়নের প্রত্যাশায় ৫০ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা বিএনপির হাতে তুলে দেয়। শনিবার (১৭ নভেম্বর) ২০ দলীয় জোটের নেতৃত্বদানকারী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও নজরুল ইসলাম খানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে জামায়াতের প্রতিনিধি দল।
সূত্র জানায়, সারাদেশে ৬০টি আসন থেকে স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থিতার জন্য মনোনয়নপত্র তুলেছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। এই ৬০ জনের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করে ৫০ জনের নামের তালিকা দলের পক্ষ থেকে বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। বাকীরা দলের সিগন্যাল নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চায়।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির একটি সূত্র জানায়, তালিকায় নাম প্রস্তাব ছাড়াও সংশ্লিষ্ট আসনে ভোটের হিসাব, জামায়াতের বিগত দিনে প্রাপ্ত ভোট, সম্ভাবনা, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএনপির অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে। শনিবার এই তালিকা দিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের এক নেতা। এরপর তার পরামর্শেই দলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্যের কাছে তালিকা হস্তান্তর করেন।
২০০১ সালে চারদলীয় জোটের ব্যানারে ৩১টি, এরমধ্যে জোটবদ্ধভাবে ৩০টি এবং এককভাবে একটিতে নির্বাচন করে জামায়াত। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ৩৯টি আসনে জোটগত সমর্থন পেলেও চারটি থেকে দলীয়ভাবে নির্বাচন করেন জামায়াতের প্রার্থীরা। দলটির তৃণমূলের অভিমতের ভিত্তিতে এবার তাদের দাবি ৬২টি। তবে চূড়ান্তভাবে ৩০টি আসনে ন্যূনতম ছাড় চায় জামায়াত। কারণ জামায়াতের লক্ষ্য বিএনপিকে ছাড় দিয়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বিএনপির ‘সমঝোতা প্রক্রিয়ায়’ সহায়ক অবস্থান নেওয়া। যাতে যেকোনমূল্যে আগামি নির্বাচনে জিতে পুনরায় ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া যায়।
এদিকে নির্বচনের আগে দারুণ সক্রিয় জামায়াতের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ খ্যাত লন্ডনপ্রবাসী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। ইতোমধ্যে তিনি সেখানে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপার্সন (ভারপ্রাপ্ত) তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে নির্বাচনে জামায়াতের অবস্থানের কথা তুলে ধরেছেন। নির্বাচনে বিএনপিকে সবধরনের সহযোগিতা করতে চান তারা। প্রয়োজনে নিজেদের ‘ক্ষতি’ স্বীকার করে ঐক্যফ্রন্টকে সামনে রেখে বিএনপির সহায়ক হবেন। কিন্তু বিনিময়ে কিছু শর্ত দিয়েছেন তারেক রহমানকে। তার অন্যতম হলো দেশের প্রগতিশীল শক্তির কণ্ঠরোধ করা।
লন্ডনে অবস্থানরত প্রবাসী বাঙ্গালিদের সূত্রে জানা যায়, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকসহ জামায়াতের বেশ কয়েকজন পলাতক নেতা লন্ডনসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কয়েকটি বৈঠক করেছেন। ওই সব বৈঠকে দেশ থেকেও জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নিয়েছেন। বৈঠকে তারা দেশের ৫৬০জন ব্যক্তির একটি তালিকা তৈরি করেন যা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে মৌখিকভবে জানানো হয়েছে বলে কমিউনিটিতে গুঞ্জন আছে।
জানা গেছে, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে যারা বেশি সড়ব। যারা থাকলে জামায়াত তাদের সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে পরিচালনা করতে পারে না। বেঁছে বেছেঁ তাদের নাম নিয়েই এ তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এই তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, কমরেড দিলীপ বড়ুয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলী খান, সুলতানা কামাল, ব্যারিষ্টার রফিকুল ইসলাম, ব্যারিস্টার আমির-উল-হক, সাংবাদিক মতিউর রহমান, মাহফুজ আনাম, মাসুদা ভাট্টি, শ্যমল দত্ত, ড. আনিসুজ্জামান, ড. আআমস আরেফিন সিদ্দিক, ড. আখতারুজ্জামান, ড. মঞ্জুরুল ইসলাম, ড. মেসবাহ কামাল, ড. কাবেরী গায়েন, ড. গীতি আরা নাসরীন,ড. গোলাম রব্বানী, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, অধ্যাপক আবদুল মান্নান, অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, সংস্কৃতিকর্মী নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, গোলাম কুদ্দুছ, হাসান আরিফ, মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির, শাহরিয়ার কবির, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার, ব্লগার মারুফ রসূল, মাহমুদুল হক মুন্সী, অমি রহমান পিয়াল, আরিফ জেবত্যিক, শাইখ সিরাজ, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, ফজলে হাসান আবেদ, মোজাম্মেল বাবু, ব্যবসায়ী শাহ আলম, সিটি ব্যাংকের রুবেল আজিজ, যমুনা গ্রুপের বাবুল, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র নামও রয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানার জন্য জামায়াতের প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলমের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।