৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬, শনিবার ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ , ৫:৫৪ অপরাহ্ণ

বিব্রত বিএনপি

তারেক-খালেদার দুর্নীতি তদন্তে ঢাকায় সৌদি প্রতিনিধি

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১০:১০ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার | আপডেট: ১০:৫০ পিএম, ১ ডিসেম্বর ২০১৯ রবিবার

তারেক-খালেদার দুর্নীতি তদন্তে ঢাকায় সৌদি প্রতিনিধি

তারেক-খালেদার দুর্নীতি তদন্তে ঢাকায় সৌদি প্রতিনিধি

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের দুর্নীতি তদন্তে ঢাকায় এসেছে সৌদি বিশেষ প্রতিনিধি দল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে ইতোমধ্যে দেখা করেছে এই প্রতিনিধি দল। তদন্তের প্রয়োজনে তারা সাক্ষাৎ করতে পারে জোট সরকারের সময়ের নানা কর্মকর্তাদের সাথেও।

২০১৭ সালের ৪ নভেম্বরে সৌদি আরবের নবগঠিত দুর্নীতি দমন কমিটি দেশটির ১১জন শাহজাদা, মন্ত্রী এবং বেশ কয়েকজন সাবেক মন্ত্রীসহ ২০১ জন প্রভাবশালীকে দুর্নীতির অভিযোগে  আটক করে। তাদের দুর্নীতির সঙ্গে বিশ্বের আরও অনেক দেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছিলো তদন্ত কমিটি যাদের মধ্যে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সদস্যদের নামও এসেছিলো। সৌদি গণমাধ্যম আল-অ্যারাবিয়া, সৌদি আরবের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এসপিএ, দুবাই ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল দ্য ন্যাশনাল, লন্ডনভিত্তিক গণমাধ্যম মিডল ইস্ট আইসহ নানা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিলো এসব খবর।

জিয়া পরিবারের সদস্যরা  ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে বলে খবর প্রকাশ পেয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতে।  খালেদা জিয়ার পাশাপাশি তার বড় ছেলে তারেক রহমান, খালেদার ভাই শামীম ইস্কান্দারের নামও রয়েছে এই তালিকায়। আটককৃতদের একজন বিশ্বের অন্যতম ধনী, সৌদি শাহজাদা আল-ওয়ালিদ বিন তালালকে জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পায় দুর্নীতি দমন কমিটি।

আল-ওয়ালিদ বিন তালাল ছাড়াও পেট্রোকেমিক্যাল ব্যবসায়ী ইয়াহিয়া লতিফের কাছেও জিয়া পরিবারের বিনিয়োগ ১০ কোটি রিয়াল বা ২৩০ কোটি টাকা রয়েছে। এছাড়া সদ্য পদচ্যুত সৌদিমন্ত্রী আদেল বিন ফিকাহর কাছে জিয়া পরিবারের সদস্যরা বিনিয়োগের জন্য অর্থ দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সৌদি আরবে জিয়া পরিবারের গচ্ছিত অর্থের পরিমাণের জন্যই দেশটিতে বেগম জিয়া আলাদা মর্যাদা পেতেন বলে দাবি দেশটির দুর্নীতি দমন কমিটির।



জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তদন্তে সৌদি দুর্নীতি দমন কমিটির উর্ধ্বতন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মুয়াজিবের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থান করছে। মুয়াজিব জানান, এ ধরনের মানি লন্ডারিং, "দুর্নীতির সঠিক তদন্তে আন্তর্জাতিক সহায়তা দরকার আমাদের। আমরা আশা করি এ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার আমাদের সর্বাত্মক সহযোগীতা করবে।"

সৌদি প্রতিনিধি দলের তদন্তের ঘটনায় বিব্রত বিএনপি নেতৃবৃন্দ। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর রায় এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে দল থেকে সদ্য পদত্যাগকারী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোর্শেদ খান বলেন, “এই বিষয়গুলো তখন ওপেন সিক্রেট ছিল। এর বেশি কিছু বলতে চাই না।”  

এছাড়াও কানাডার আদালতে খালেদা জিয়ার নাইকো দুর্নীতির মামলা প্রমাণিত হয়েছে। আরাফাত রহমান কোকো’র সিমেন্স কেলেঙ্কারির টাকাও দেশে ফেরত আনা হয়েছে। এফবিআই বাংলাদেশে এসেও স্বাক্ষী দিয়ে গেছে।

এইসব নিয়ে বিব্রত বিএনপির উপদেষ্টা অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, আসলেই আমি বিব্রত। দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই রকম দুর্নীতি মেনে নেয়া যায়না।
অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, এই বিষয়গুলো সত্য হলে তা খুব দুঃখজনক। তবে মনে হচ্ছে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে।