৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫, শনিবার ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ , ৯:০৬ পূর্বাহ্ণ

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠনের দাবির অন্তরালে রহস্যটা কী?

আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ০৯:০৫ পিএম, ৯ জুলাই ২০১৭ রবিবার

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠনের দাবির অন্তরালে রহস্যটা কী?

নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠনের দাবির অন্তরালে রহস্যটা কী?

বিএনপি’র সহায়ক সরকারের সংজ্ঞাটা কী? আমার কাছে অনেকে জানতে চান। আমি তাদের বলি, আমি কী করে বলব? বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, “আমরা নির্বাচনকালে একটি নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরির কাজ করছি। তাই এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না।” যে সহায়ক সরকারের রূপরেখাই এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি, সেই সরকারের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য বিএনপি’র হাঁকডাকের অন্ত নেই। এই রূপরেখাবিহীন সরকার গঠনের দাবি তোলার আসল রহস্য মওদুদ আহমদই আবার ফাঁস করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের চেয়ারপারসন তো বলেই দিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে ক্ষমতায় রেখে কোনো সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না।”

আসল কথা এটাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সহায়ক সরকার একই দাবির দুই নাম মাত্র। আসল উদ্দেশ্য শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান করা। তিনি ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার সহায়ক সরকার যে নামেই একটা সরকার গঠিত হোক না কেন, বিএনপি তা মেনে নেবে। তখন আর সেই সরকারের কোনো রূপরেখা দরকার হবে না। মুখে তারা যতই বলুন, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য তারা সহায়ক সরকার চান, তাদের মনের ইচ্ছা, শেখ হাসিনাকে কেবল ক্ষমতা থেকে সরানো। তা হলে নির্বাচনে তাদের এক্কা দুক্কা খেলার সুযোগ হয়। যেমন তারা খেলেছিলেন ২০০১ সালের নির্বাচনে। তাই সহায়ক সরকার বস্তুটা কী, তা জনগণকে জানানোর আগেই তারা সেই সরকারের দাবিতে মাঠে নেমেছেন। ভাবছেন হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারলেই আবার ২০০১ সালের খেলা খেলতে পারবেন।

বিএনপি প্রথমে নির্বাচনকালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ২০১৪ সালের নির্বাচনে যায়নি। এই সরকারের দাবিতে তারা রাজপথে নেমে জামায়াতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলনের নামে পেট্রোল বোমায় মানুষ পুড়িয়ে মারার অভিশপ্ত রাজনীতি করেছে। সেই সন্ত্রাসের রাজনীতি ব্যর্থ হয়েছে। দেশের মানুষ বিএনপি’র হাতেই বিকৃত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে সায় দেয়নি। সংবিধানেও এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান রাখা হয়নি। ফলে বিএনপিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির খোলস পাল্টাতে হয়েছে। সাপ যেমন প্রতি বছর খোলস পাল্টায়, তেমনি বিএনপি’র দাবিগুলোও জনগণের কাছে প্রত্যাখ্যাত হলেই খোলস পাল্টায়। এটা অনেকটা নতুন লেবেলে পুরনো মদ বিক্রির চেষ্টা। বিএনপি’র বর্তমান সহায়ক সরকারের দাবিও অতীতের সাহাবুদ্দীন-লতিফুর রহমান মার্কা তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবি ছাড়া আর কিছু নয়।

শেখ হাসিনা ঠেকে শিখেছেন। তিনি যে এখন ব্রিটেনসহ ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর গণতান্ত্রিক রীতি মেনে নির্বাচনকালে তার সরকারকেই কেয়ার টেকার সরকার হিসেবে রাখতে চান, তার উদ্দেশ্য নির্বাচনকে প্রভাবিত করা নয়, উদ্দেশ্য নির্বাচনে বিএনপি ও তাদের সহায়ক সুশীল সমাজের অশুভ প্রভাব ঠেকানো। ২০০১ সালে নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ হাসিনা সরল বিশ্বাসে সংবিধান মেনে তারই মনোনীত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান লতিফুর রহমান ওরফে শান্তি মিয়ার কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।

তার পরই বাংলাদেশের রাজনীতির দৃশ্যপট বদলে যায়। কথায় বলে, “আমার বধূয়া আনবাড়ি যায় আমারই আঙিনা দিয়ে।” কথাটির সত্যতা প্রমাণিত হলো সাহবুদ্দীন-লতিফুর রহমান জুটির আচরণে। দেখা গেল, নির্বাচনকালে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শাহ মোহাম্মদ কিবরিয়া বা অন্য কোনো নেতাকে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান লতিফুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বার বার সময় চাইতে হয়। কিন্তু বিএনপি’র অঘোষিত সমর্থকেরা দু’জনেরই কনসান্স কীপার হয়ে বসেছেন। রাষ্ট্রপতির এই কনসান্স কীপারদের মধ্যে ড. কামাল হোসেন, মান্নান ভূঁইয়া, ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং একটি “নিরপেক্ষ” ইংরেজি দৈনিকের সম্পাদকও ছিলেন প্রধান। এছাড়া বিদেশি কূটনীতিকদের টুইসডে ক্লাবের অবাঞ্ছিত ভূমিকা তো ছিলই।

বিচারপতি সাহাবুদ্দীন ছিলেন শেখ হাসিনার মনোনীত একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ রাষ্ট্রপতি। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর তার নতুন সংসদ উদ্বোধনী ভাষণ বিএনপি বর্জন করে। কিন্তু কিছুদিন পরই দেখা গেল এই একই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বেগম জিয়ার গভীর মিতালি। রাষ্ট্রপতি অসুস্থ হয়ে একদিনের জন্য হাসপাতালে গেলে বেগম জিয়া হাসপাতালে ছুটে যান তাকে দেখতে। রাষ্ট্রপতি তার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বঙ্গ ভবনে তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য যতটা সময় দেন, তার চাইতে অনেক বেশি সময় দেন খালেদা জিয়াকে। আর লতিফুর রহমানের সঙ্গে খালেদা জিয়ার নানা গোপন ডিলের গুজব তখনই রাজনৈতিক মহলে ছড়িয়ে পড়েছিল।

২০০১ সালের সেই নির্বাচনের সময়েই দেখা গেল, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তার ক্রেডিবিলিটি হারাচ্ছে। দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের স্বার্থে শেখ হাসিনাই আন্দোলন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি প্রবর্তন করেছিলেন; ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় দেখা গেল, সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেই ম্যানুপুলেসন দ্বারা বিএনপি ও তাদের সমর্থক সুশীল সমাজ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে। এই নির্বাচনে দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বিএনপি জয়ী হওয়ার পর ক্ষমতা গ্রহণের মুহূর্তে খালেদা জিয়া সরকারের নির্দেশে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বসবাসের সরকারি ভবনের পানি-বিদ্যুত্-গ্যাস সব লাইন কেটে দেওয়া হয়।

আমেরিকাতেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর বিদায়ী প্রেসিডেন্টকে তিন মাস হোয়াইট হাউজে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়। বেগম জিয়া সেই সুযোগটুকুও শেখ হাসিনাকে দেননি। এমনকি শেখ হাসিনা তার ছোট বোন শেখ রেহেনাকে রমনায় যে একটি ছোট বাড়ি দিয়েছিলেন, সেই বাড়িটি দখল করে পুলিশের থানা স্থাপন করা হয়। ভাগ্যের কী পরিহাস, আজ বিএনপির এক শীর্ষ নেতা মওদুদ আহমদের দখল থেকে যে প্রাসাদোপম বাড়িটা উদ্ধার করা হয়েছে সেটা ভেঙে পুলিশের কোয়ার্টার করা হবে।

২০০১ সালে ক্ষমতায় বসে বেগম জিয়ার প্রতিহিংসার রাজনীতি উদগ্র মূর্তি ধারণ করেছিল। নির্যাতন, হত্যা, নারী ধর্ষণে দেশে বিভীষিকার রাজত্ব স্থাপিত হয়েছিল। এখন সেই বিএনপি নেত্রী আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে বাজার গরম করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি কি ইতোমধ্যেই শাহ কিবরিয়া থেকে আহসানউল্লাহ মাস্টার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতাকে তার শাসনামলে হত্যার কথা ভুলে গেছেন? শেখ হাসিনার সভায় গ্রেনেড হামলায় বেগম আইভি রহমানসহ শতাধিক মানুষ হতাহত হওয়ার কথা ভুলে গেছেন? ভুলে গেছেন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতার আহত হওয়ার কথা? শেখ হাসিনা তো এই হামলায় অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছেন!

এরই প্রেক্ষিতে বলা যায়, আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির নেতা-নেত্রীরা বিভিন্ন দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতার হয়েছেন, জেলে গেছেন। আবার জামিনে মুক্ত হয়ে গলায় মালা নিয়ে বাইরে এসে রাজনৈতিক গলাবাজি শুরু করেন। নানা দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত বেগম খালেদা জিয়া যখন আদালতে হাজিরা দিতে যান, তখন নেতা-নেত্রী ও দলীয় কর্মী বেষ্টিত হয়ে এমন রাজরানির বেশে যান, আমার ধারণা তা আদালত অবমাননা এবং বিচার ব্যবস্থাকে ব্যঙ্গ করার শামিল। তারপরও তিনি নির্যাতিতা নারী সেজে এমন অভিনয় করেন, যা আসল অভিনেত্রীদেরও হার মানায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিকে সম্পূর্ণভাবে কলুষিত করে বিএনপি তাদের হাতের পুতুল রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দীনের আমলে। ইয়াজউদ্দীন ছিলেন একটি তত্ত্বাবধারক সরকারের স্বনিযুক্ত প্রধান উপদেষ্টা। চালিত হতেন বেগম জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমানের নির্দেশে। তার পক্ষপাতিত্বপূর্ণ ভূমিকায় অধিকাংশ উপদেষ্টা পদত্যাগ করার পর তিনি নিজের বাছাই করা কিছু উপদেষ্টাকে তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারে গ্রহণ করেন। এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে একটি কারসাজির নির্বাচন হলে দেশে রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ হতো। এই সময়ে এক-এগারোর আবির্ভাব। এই ফখর-মঈনউদ্দীন সরকারের ভালো-মন্দ দু’দিকই ছিল। ভালো দিক একটি ভয়াবহ গৃহযুদ্ধ থেকে দেশকে মুক্ত করা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিকে সংবিধান থেকে বাদ দিয়েছেন। তারা ফেরত গেছেন ক্ষমতাসীন সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থায় যা সারা গণতান্ত্রিক দুনিয়ায় প্রচলিত। বাংলাদেশে নির্বাচনে দুর্নীতির পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছে বিএনপি সরকার বার বার। সবচাইতে বড় উদাহরণ ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ভোটারবিহীন জাল নির্বাচন। এই ধরনের জাল নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো উদাহরণ আওয়ামী লীগ এখনো দেখায়নি। দেখালে দেশের জনগণই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামাত। ১৯৯৬ সালে জালিয়াতির নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর যেমন জনগণ বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে টেনে নামিয়েছিল। ২০১৪ সালে বিএনপিই নির্বাচনে আসেনি। এটাকে একতরফা নির্বাচন বলা চলে। জালিয়াতির নির্বাচন বলা চলে না।

আবদুর রহমান বিশ্বাস (রাজাকার রাষ্ট্রপতি নামে পরিচিত), সাহাবুদ্দীন আহমদ ও ইয়াজউদ্দীন আহমদ রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তাদের কারো কারো দলীয় পক্ষপাতিত্ব এবং কারো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে এবং একটি সুবিধাভোগী সুশীল সমাজের সমর্থন আদায় করে বিএনপি যেভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটিকে বিকৃত ও কলুষিত করেছে, তাতে এই ব্যবস্থায় নির্বাচন অনুষ্ঠান দেশে মোটেই অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের নিশ্চয়তা দেবে না। দেশের মানুষও তা বোঝে। তাই বিএনপি নেত্রী ওই পচা ও গলিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থাকেই সহায়ক সরকারের লেবেল লাগিয়ে জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টায় মেতেছেন। তাই তাদের প্রস্তাবিত সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণায় মওদুদ আহমদের মতো ব্যারিস্টারও ঘর্মাক্ত হচ্ছেন। এই রূপরেখা যদি তারা দেনও, তাহলে দেখা যাবে পুরনো মদই নতুন বোতলে ঢালা হয়েছে।

ব্রিটেনের মতো উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেও নতুন সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়া হয়। রানি তখন ক্ষমতাসীন সরকারকেই নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ না করা পর্যন্ত কেয়ারটেকার সরকার হিসেবে কাজ চালাবার নির্দেশ দেন। এই সরকারের দৈনন্দিন কাজের দায়িত্ব পালন ছাড়া আর কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকে না। আমেরিকায় যেমন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পরও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট তিনমাস ক্ষমতায় থাকেন। বড় কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নেন না, বাংলাদেশেও এবার এই পদ্ধতিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে হাসিনা সরকার কেয়ারটেকার সরকার হিসেবে ক্ষমতায় থাকবেন। এ সময় পার্লামেন্ট ভেঙে দেওয়াও উচিত হবে। গণতান্ত্রিক রীতির এই নির্বাচনে যোগ দিতে বিএনপি কেন ভয় পাচ্ছে, তা তারাই জানেন। নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নাম দিয়ে যে পুরনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার তারা চান, তাদের ম্যানুপুলেট করে, একটি অনুগত সুশীল সমাজের ও তথাকথিত নিরপেক্ষ একটি মিডিয়া গ্রুপের দ্বারা বিভ্রান্তি সৃষ্টিপূর্বক (সঙ্গে একশ্রেণির বিদেশি কূটনীতিকের গোপন তত্পরতা) নির্বাচনে বাজিমাত করা যাবে না, এটাই কি তাদের আসল ভয়?

হাসিনা সরকারের তত্ত্বাবধানেই নির্বাচন কতটা অবাধ ও নিরপেক্ষ করা যায়, বিএনপি তার পরামর্শ দিক। কিন্তু সহজ পথে ক্ষমতায় যাওয়ার অভ্যাস তাদের নেই। নইলে যে ভারত-বিদ্বেষ প্রচার যাদের একমাত্র রাজনৈতিক মূলধন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এখন সেই ভারত-ভজনা তারা শুরু করেছে। আমার বিশ্বাস, বিএনপি যত চিত্কার করুক, আগামী নির্বাচন মোটামুটি অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে এবং কোনো সহায়ক সরকারের অশুভ ও উদ্দেশ্যমূলক সহায়তা নির্বাচন অনুষ্ঠানে দরকার হবে না। বিএনপি তাতে যোগ দেবে।