৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, বুধবার ২২ মে ২০১৯ , ১০:৫৫ অপরাহ্ণ

পদ্মায় হারিয়ে গেলো ১০টি প্রাণ!

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:৫৯ এএম, ১১ আগস্ট ২০১৮ শনিবার

পদ্মায় হারিয়ে গেলো ১০টি প্রাণ!

পদ্মায় হারিয়ে গেলো ১০টি প্রাণ!

চার দিন পার হয়ে গেলেও শরীয়তপুরের সাধুরবাজার লঞ্চঘাট এলাকা নদীতে বিলীন হওয়ার সময় নিখোঁজ ব্যক্তিদের অনেকেরই কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনও শনিবার থেকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। উপজেলা প্রসাশন থেকে প্রথমে আট জন নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছিল। সর্বশেষ শনিবার পর্যন্ত ১০ জন নিখোঁজ বলে জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (৭ আগস্ট) দুপুরে ২৫/৩০ জন মানুষ ও ৬টি দোকানঘরসহ শরীয়তপুরের সাধুরবাজার লঞ্চঘাট এলাকা হঠাৎ করেই নদী ভাঙনের কারণে ধসে পড়ে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়। এ সময় তাৎক্ষণিকভাবে ১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিদের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি।
স্বজনদের অপেক্ষা আর ফুরায় না

নড়িয়া উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে মঙ্গলবার দুপুর থেকে শুক্রবার (১০ আগস্ট) রাত ৮টা পর্যন্ত নৌবাহিনীর ডুবুরি, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একটানা উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবারের দাবি অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১০ ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন। এরা হচ্ছেন নড়িয়ার উত্তর কেদারপুর গ্রামের শাহজাহান বেপারি (৭০), মজিবুর ছৈয়াল (৪৫), গুপী বাছার (৫৫), আব্দুর রশিদ হাওলাদার, মোশারফ চোকদার, কলুকাঠি গ্রামের নাছির বয়াতী (১৮), চাকধ গ্রামের নাছির হাওলাদার (৩৫), বরিশালের নাজিরপুর গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে আল আমিন (২৭), নড়িয়ার উত্তর কেদারপুর গ্রামের জামাল ছৈয়াল ও দক্ষিণ কেদারপুর গ্রামের অন্তু মগদম। তবে চার দিন ধরে তল্লাশি চালানো হলেও তাদের কারও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনও লাশও ভেসে উঠেনি।
শরীয়তপুরে নদীগর্ভে বিলীন সাধুরবাজার লঞ্চঘাট

নিখোঁজ নাছির বয়াতীর মা নাজমা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিন সকালে নদীর পাড়ে এসে বসে থাকি, সন্ধ্যায় যাই। আমার ছেলেটা এইভাবে হারিয়ে যাবে বুঝতে পারি নাই। লাশটা পেলেও বাড়িতে নিয়ে দাফন করতে পারতাম।’

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন বলেন, ‘দুর্ঘটনার চার দিন পর উদ্ধার কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তীব্র স্রোতের কারণে ঘটনাস্থলে ডুবুরিরা নামতে পারছে না। আর স্রোতের টানে ঘটনাস্থলে কিছু থাকার সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।’

জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন, ‘আশপাশের জেলাগুলোকে অবহিত করা হয়েছে। তাদের নৌ সীমানায় কোনও লাশ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে বলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও খবর পাওয়া যায়নি।’