৯ আশ্বিন ১৪২৫, সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৩:৫২ অপরাহ্ণ

বিজ্ঞানের হাত ধরে এগিয়ে যাবে দেশ

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১২:১১ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ বুধবার | আপডেট: ০৮:০৯ পিএম, ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ বৃহস্পতিবার

বিজ্ঞানের হাত ধরে এগিয়ে যাবে দেশ

বিজ্ঞানের হাত ধরে এগিয়ে যাবে দেশ

সহজ উপায়ে নিকোটিনের মাত্রা সংগ্রহ প্রকল্প উপস্থাপন করে বিএফএফ-সমকাল বিজ্ঞান উদ্ভাবন মেলা ২০১৮-এ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী লায়লা সিমরান। প্রথম রানার্স আপ হয়েছে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ। রোগী তার ওষুধ খেয়েছি কি-না- এ ব্যাপারটি নিশ্চিত করতে এ প্রতিষ্ঠানের খুদে বিজ্ঞানী তওসিফ সামিন ও ফারহান করিম উদ্ভাবন করেছে ডিজিটাল পদ্ধতি `আইওটি পিল ডিসপেন্সার` প্রকল্প। অন্যদিকে প্রতিবন্ধীদের জন্য রোবোটিক হাত (রোবোটিক হ্যান্ডস ফর ডিজঅ্যাবল) প্রকল্প উদ্ভাবন করে দ্বিতীয় রানার্স আপ হয়েছে রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের তিন প্রতিযোগী বিজ্ঞানী তৌফিকুল ইসলাম, হোসেন আমীর এবং ইজাজ আলম। 

গতকাল মঙ্গলবার দু`দিনব্যাপী এ মেলার সমাপনী দিনে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার। সারাদেশের বাছাই করা অর্ধশতাধিক প্রকল্প নিয়ে দেড় শতাধিক খুদে বিজ্ঞানীর অংশগ্রহণে গত সোমবার শুরু হয়েছিল এ বিজ্ঞান উদ্ভাবন মেলা। আবিস্কার ভবিষ্যতের পথরেখা- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সমকাল সুহৃদ সমাবেশের উদ্যোগে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেয়। 

গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. রেজাউর রহমান, অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সিরাজ, ড্যাফোডিল গ্রুপের চেয়ারম্যান সবুর খান, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (বিএফএফ) নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সমকাল সুহৃদ সমাবেশের বিভাগীয় পরিচালক সিরাজুল ইসলাম আবেদ। 

চ্যাম্পিয়ন হিসেবে লায়লা সিমরানের হাতে তুলে দেওয়া হয় ল্যাপটপ, 

ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বিজ্ঞানবিষয়ক বই। একইভাবে ল্যাপটপ, ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বিজ্ঞানবিষয়ক বই পেয়েছে প্রথম রানার্স আপ দলের প্রত্যেক সদস্য। দ্বিতীয় রানার্স আপ দলের প্রত্যেকে পায় স্মার্টফোন, ক্রেস্ট ও বিজ্ঞানবিষয়ক বই। 

খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে মোস্তাফা জব্বার বলেন, একটা জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে নতুন প্রজন্মের একেকজনকে `নলেজ ওয়ার্কার` হতে হবে। বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখতে হবে। স্বপ্ন দেখলেই কেবল তা পূরণ হয়। তোমাদের মাঝেই আগামীর ভবিষ্যৎ। আজকের বিল গেটস, জাকারবার্গের মতো উদ্ভাবক হয়ে তোমরাও একদিন বাংলাদেশের শির আরও ঊর্ধ্বে তুলে ধরবে। 

সভাপতির বক্তব্যে গোলাম সারওয়ার বলেন, অফুরন্ত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। বর্তমানকে আরও বেশি বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে নবীন বন্ধুদেরই সামনে এগিয়ে যেতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমকে বুকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণেও স্বপ্ন দেখতে হবে। 

গ্রামের স্কুলে বিজ্ঞান শিক্ষার দুর্বলতা তুলে ধরে ড. রেজাউর রহমান বলেন, গ্রামে বিজ্ঞান ও গণিতের ভালো মানের শিক্ষকস্বল্পতা দূর করতে হবে। প্রতিটি গ্রামে গড়ে তুলতে হবে বিজ্ঞান গবেষণাগার। 

বাস্তবধর্মী সমস্যা চিহ্নিত করে প্রকল্প উদ্ভাবনের প্রতি আরও বেশি নজর দিতে নবীন বিজ্ঞানীদের প্রতি আহ্বান জানান ড. জেবা ইসলাম সিরাজ। 

সবুর খান বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একাডেমিক পড়ার বাইরে উদ্ভাবনের যে উৎসাহ থাকে, তা উচ্চশিক্ষায় গেলেও ধরে রাখতে হবে। এজন্য শিক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রয়োজন দরকার।

এছাড়া সাতটি দলের প্রকল্পকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে দেওয়া হয় ক্রেস্ট, সনদপত্র ও বিজ্ঞানবিষয়ক বই। এগুলো হলো মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের `ডিজিটাল সিটি বাই নো কস্ট সিস্টেম` প্রকল্পে সানজান হোসেন, নাসিফ চৌধুরী ও তাহসীন ইসলাম ফাহিম; ঢাকার ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের `গ্যাস সেনসর` প্রকল্পে জাকিয়া সুলতানা, মাইশা রহমান ও আনিকা তাবাসসুম; শহীদ মামুন মাহমুদ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের `অগ্নিনির্বাপক রোবট` প্রকল্পে জিসকান জুলকার নাইন, পারভেজ হোসেন ও রাউফ হাসান; বীরশ্রেষ্ঠ আবদুর রউফ পাবলিক কলেজের `পরিবেশ বান্ধব চুলা` প্রকল্পে মারিয়া কিবতিয়া, সিতাত তাসনিম ও সালমা সাবিহা; নাটোর সুগার মিলস উচ্চ বিদ্যালয়ের `উপকূলীয় জলোচ্ছ্বাসের পূর্বাভাস` প্রকল্পে ফাহিম ফেরদৌস ও নিলয়; জয়পুরহাটের রামদেও বাজলা উচ্চ বিদ্যালয়ের `ড্রেন ক্লিয়ার বোট` প্রকল্পে এম এম রাফসান জানী, সালেহুর রহমান ও সাম সুজ তিবরিজী এবং ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের `ন্যাচারাল ইভাপোরেট কোল্ড স্টোরেজ` প্রকল্পে মায়েশা জামান সারা, মেহজাবিন জামান এবং মেরিনা সন্তাজ। 

এর আগে গতকাল সকালের সেশনে `আকাশ, মহাকাশ ও মহাবিশ্বে আমরা` শীর্ষক উপস্থাপনা তুলে ধরেন বিজ্ঞান বক্তা আসিফ। এরপর `মজার বিজ্ঞান` শীর্ষক সেশনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিথস্ট্ক্রিয়ায় অংশ নেন অধ্যাপক ড. জেবা ইসলাম সেরাজ। প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. রেজাউর রহমান ও বুয়েটের অধ্যাপক ফারসিম মান্নান মোহম্মদী। সোমবার প্রথম দিন মেলার উদ্বোধন করেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও জনপ্রিয় লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল।