৩১ ভাদ্র ১৪২৬, সোমবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ , ৬:৩২ পূর্বাহ্ণ

সাঙ্গ হলো স্বপ্নের বিশ্বকাপ

বিডিএসনিউজ২৪.কম

প্রকাশিত : ১১:১৭ এএম, ১৬ জুলাই ২০১৮ সোমবার

সাঙ্গ হলো স্বপ্নের বিশ্বকাপ

সাঙ্গ হলো স্বপ্নের বিশ্বকাপ

মস্কোর আকাশের মন ভালো ছিলো না। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়া। নিজরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে পারেনি বলেই কালো গোমরা মেঘে ঢেকে ছিলো আকাশটা।

ম্যাচের উত্তাপে হয়তো দুঃখটাও ভুলে ছিলো। তবে ম্যাচ শেষে যখন বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার উঠছে তখন আর আবেগ ধরে রাখতে পারেনি। কেঁদে ভাসিয়েছে। বৃষ্টি হয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে ফাইনালিস্ট দুই দলের প্রেসিডেন্টকে। বাদ যায়নি স্বয়ং পুতিনও।

কাঁদলে নাকি কষ্ট কমে। বুকটা হালকা হয়। তবে মস্কোর আকাশ এদিন যে দুঃখে কেঁদেছে সেটা নিশ্চিত করে বলা যাবে না। কারণ, কান্না শুধু কষ্টের বহিঃপ্রকাশ না; আবেগ, আনন্দ বা খুশিতে কান্না পায়। আর রাশিয়ার কষ্টের জায়গাটাও অত বড় নয়। বিশ্বকাপে অংশ নেয়া ৩২ দলের মধ্যে র‍্যাংকিংয়ে তারাই ছিলো সবচেয়ে নিচে। স্বাগতিক না হয়তো বিশ্বকাপেই দেখা যেতো না যে দলকে সেই রাশিয়া একের পর এক চমক দেখিয়েছে মাটির জোরে। শীর্ষ ষোলতে স্পেনের মতো দলকে বিদায় করে পৌঁছেছে কোয়ার্টার ফাইনালে। টাইব্রেকারে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে হেরে বিদায় নিলেও ম্যাচে তাদের লড়াইটা নিয়ে গর্ব করে যেতে পারবে অন্তত আগামী বিশ্বকাপ পর্যন্ত।

তাইতো কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেই খুশি থাকার কথা রাশানদের। তাই বলাই যাই, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বৃষ্টিটা আসলে রাশিয়ার আনন্দের কান্না। আসর শুরুর আগে বিশ্বকাপ আয়োজনে রাশিয়া কতটা সফল হবে তা নিয়ে সংশয়ে ছিলেন অনেকে। গত ১৪ জুন টুর্নামেন্ট শুরুর পর একেকটি দিন গেছে আর বুক উজাড় করে বিনোদন দিয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। সফলতার বিচারে রাশিয়াকে একশ নম্বরই দিচ্ছে ফিফা। সংস্থাটির প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তো বলেই দিয়েছেন, বিগত সব আসরকে ছাড়িয়ে গেছে রাশিয়া বিশ্বকাপ।

কী ছিলো না এই আসরে? ঘটনা-দুর্ঘটনা, আবেগ-ভালোবাসা, উৎসব-উৎকণ্ঠায় পরিপূর্ণ ছিলো বিশ্বকাপের ২১তম আসর। গ্রুপ পর্ব থেকে জার্মানির বিদায় নেয়া থেকে শুরু করে স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের স্বপ্নভঙ্গ কিংবা বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়ার চমক কোনটাই তো ভোলার মতো না।

একটি মাস ধরে চলা রঙের মঞ্চ সাঙ্গ হয়েছে। শুধু বদলে গেছে আনন্দের রং। নীল আর এদিন দুঃখের প্রতিনিধিত্ব করেনি, বরং উৎসবের রং হয়েছে। নতুন সম্রাটের মাথায় মুকুট উঠতে পারতো। তবে স্বর্ণালী প্রজন্মের ক্রোয়েশিয়া পেরে উঠেনি। লুঝনিকিতে ফরাসী বিপ্লবে সব তছনছ হয়ে গেছে। এমবাপ্পে, পগবা, গ্রিজম্যানদের মতো যোদ্ধাদের হারাবার সাধ্য কারই বা আছে?